বেনজিরকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা জানতেন মোশাররফ

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ বেনজির ভুট্টোকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা জানতেন। তালেবানের এ ষড়যন্ত্রের কথা আগেভাগে জেনেও বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাননি। বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গঠিত একটি দল এ তথ্য জানিয়েছে।

জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম (জেআইটি) নামের এ দলটি তদন্তে দেখতে পেয়েছে, বেনজিরকে হত্যার মূল পরিকল্পনা করেন পাকিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবানের প্রধান বায়তুল্লাহ মেহসুদ। এ পরিকল্পনার কথা কানে আসে পারভেজ মোশাররফের। কিন্তু তিনি বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে গোপন রেখেছিলেন।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন ও ডন নিউজ টেলিভিশন গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফআইএ) চলতি সপ্তাহে রাওয়ালপিন্ডির সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে (এটিসি) এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। জেআইটির প্রধান খালিদ কুরেশি এ প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেন। এ প্রতিবেদনে মোশাররফের বিরুদ্ধে ১২টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো রাওয়ালপিন্ডিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ শেষে মোটর শোভাযাত্রা করে সমাবেশস্থল ত্যাগের প্রাক্কালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোর কিছু আগে একজন বন্দুকধারী বেনজির ভুট্টোর দিকে অস্ত্র তাক করে আছেন।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তখনকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, তালেবান এ হামলা চালিয়ে বেনজির ভুট্টোকে হত্যা করেছে। তবে চিকিৎসকেরা বলেছেন, ঘটনার সময় গাড়িতে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেনজির। হামলার সময় গাড়ির ছাদের সঙ্গে মাথায় প্রচণ্ড ধাক্কা লেগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
জেআইটি তদন্তের সময় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জাভেদ ইকবাল চিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ঘটনার সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেলের দায়িত্বে ছিলেন।
জাভেদ ইকবাল চিমা বলেছেন, বেনজির হত্যাকাণ্ডের একদিন পর অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট মোশাররফের নির্দেশে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। পাঞ্জাব প্রদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল।
এফআইএ কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই সংবাদ সম্মেলনে চিমার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে গোয়েন্দা ব্যুরোর প্রধান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আইজাজ শাহর বিবৃতির মিল রয়েছে। জেআইটি মনে করে, পুলিশের তদন্তকাজে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মোশাররফ তড়িঘড়ি করে ওই সংবাদ সম্মেলনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এফআইএ বলেছে, বেনজির ভুট্টোর নিরাপত্তায় যেসব পুলিশ কর্মকর্তা নিযুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কোনো পদক্ষেপ নেননি মোশাররফ।
বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকায় মোশাররফের নাম রয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির সাবেক প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা সাউদ আজিজের এক বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে মোশাররফের নাম অভিযুক্তদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সাউদ আজিজ দাবি করেন, বেনজির ভুট্টোর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিলেন মোশাররফ। এমনকি হামলার ঘটনাস্থল তাৎক্ষণিকভাবে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করারও নির্দেশ দেন তিনি।
১৯৯৯ সালে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন মোশাররফ। টানা নয় বছর ক্ষমতায় থেকে ২০০৮ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন। ডন।
Share this post :

Post a Comment

Test Sidebar

 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. BdNewsTest - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger