আর হরতাল নয়ঃ সংসদে গিয়ে সরকারের সমালোচনা করুন

প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ডাকে এক মাসে দুটি হরতাল হয়ে গেল। গতকালের হরতালকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ গরম হয়ে উঠেছিল। এ সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধরপাকড় হয়েছে, বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা হয়েছে, হরতালের আগের রাতে রাজধানীতে গাড়িতে আগুন দেওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল হরতালের দিনও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও লাঠিপেটা হয়েছে। বিরোধী দলের ডাকা হরতাল যেমন হয়, তা-ই হয়েছে। জনগণ দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে, তারা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেনি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি, স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য চলেনি, ব্যাহত হয়েছে শিল্প-কলকারখানার উৎপাদন। হরতালের মতো কর্মসূচি না দেওয়ার জন্য বিএনপির প্রতি বিভিন্ন মহলের জোরালো আবেদন ও আহ্বান সত্ত্বেও দুঃখজনকভাবে দলটি তাতে সাড়া দিল না।
আমাদের দেশে বিরোধী দল সব সময়ই ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ হিসেবে হরতালের মতো কর্মসূচি পালন করে থাকে। জনগণ যদি বিরোধী দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে হরতাল পালন করত, তাতে হয়তো কোনো আপত্তি থাকার কারণ ছিল না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, জনগণ হরতাল পালন করতে বাধ্য হয়। বিরোধী দল তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের নামে রাস্তায় গাড়িতে আগুন দেয়, গাড়ি ভাঙচুর করে। গতকালের হরতালের আগের রাতেও এ ঘটনা ঘটেছে। জনগণকে হরতাল পালনে বাধ্য করতে ভয় দেখানোর জন্য এসব করা হয়। আমরা দেখেছি, হরতালের আগে বিএনপির নেতারা গণসংযোগ করেছেন, লিফলেট দিয়ে জনগণকে হরতাল পালনে আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু গাড়ি ভাঙচুর ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার কী দরকার ছিল? বিরোধী দল নিশ্চিতভাবেই দাবি করবে যে এটা তারা করেনি। তবে করেছে কারা? হরতাল ডাকা হলেই যেহেতু এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাই এ ধরনের কর্মসূচি পরিহার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
নব্বই-পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোনো সরকারকে হরতাল করে ক্ষমতাচ্যুত করা বা সরকারের ক্ষতি করা যায়নি। ক্ষতি যা হয়েছে, তা দেশের ও দেশের অর্থনীতির। আর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে দেশের জনগণকে। আন্দোলনের অস্ত্র হিসেবে হরতাল তাই পুরোনো, সেকেলে ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, দেশের জনমত যেহেতু হরতালের পক্ষে নয়, তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া। হরতালের ক্ষতিকর অভিজ্ঞতা আমাদের বছরের পর বছর ধরে হয়েছে, গতকাল আবার হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে হরতাল ডাকার বিরোধিতায় আমরা অক্লান্ত। গতকালের হরতালের পর আমরা আবারও আহ্বান জানাই, আর হরতাল নয়।
সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারের কাজের সমালোচনা, বিরোধিতা ও তর্ক-বিতর্কের জায়গা সংসদ। সরকার ও সরকারি দলের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে বিরোধী দল বিএনপির অভিযোগের শেষ নেই। আমরা চাই, হরতাল না করে সংসদে ফিরে গিয়ে বিএনপি সেই সব কথা বলুক। জনমত সৃষ্টির এটাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
Share this post :

Post a Comment

Test Sidebar

 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. BdNewsTest - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger